Tuesday, January 13, 2015

ওপেরা ব্রাউজার কে কেন এখনো ছাড়তে পারিনি

ইন্টারনেট এর সাথে পরিচয় ২০০৩ এ। ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার দিয়েই শুরু স্বাভাবিকভাবেই। কি যেন একটা ম্যাগাজিন বের হত ঐ সময়, সাথে একটা সফটওয়্যার ভর্তি সিডি। ওখান থেকেই প্রথম ওপেরা কে পাওয়া। ওপেরা ভার্সন ৭ । ওপেরা ৭ এর মত এতো এফিসিয়েন্ট আর ফাস্ট ব্রাউজিং এ মুগ্ধ আমি তখন থেকেই ওপেরার মারাত্নক ভক্ত ।
আজকে ৮ বছর পর ২০১১ তে ওপেরার মত এডভান্সড ব্রাউজার এখন বাজারে প্রায় সবাই। গুগল ক্রোম, ফায়ারফক্স এবং সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার ৯ এর মত ব্রাউজারের ভিড়েও আমি এখনও ওপেরার ভক্ত। না অন্ধ ভক্ত না। কারণ ওপেরার কিছু ফিচার এবং ব্রাউজিং ইনোভেশন ই আমাকে এখনও ওপেরা কে ছাড়তে দেয়নি। সেই সব ফিচার গুলোই শেয়ার করব আপনাদের সংগে

ভিজুয়াল ট্যাবস, ট্যাব স্ট্যাকিং, ট্যাব বার পজিশনিং এবং প্রাইভেট ট্যাব:

একই উইন্ডোতে একাধিক ডকুমেন্ট খোলা (ট্যাব ব্রাউজিং) এর আইডিয়া প্রথম আসে ওপেরা এর মাধ্যমেই। সেই ২০০০ সাল থেকে ওপেরা তে ট্যাবড ব্রাউজিং। এখন ট্যাবড ব্রাউজিং শুধু ব্রাউজারেই সীমাবদ্ধ নয়, বিভিন্ন সফটওয়্যারেই এখন ট্যাব একটি সাধারণ ফিচার। ওপেরা সেই ট্যাবড ব্রাউজিং কে দিনে দিনে আরো উন্নত করেছে।
ভিজ্যুয়াল ট্যাব এর কারণে এখন ট্যাব এর মধ্যে খোলা ওয়েবসাইটটির একটা থাম্বনেইল দেখা যায়। অনেকগুলো ট্যাবের মধ্যে যা কাংখিত সাই্টটি খুজে পেতে সাহায্য করে।
ট্যাব স্ট্যাকিং এর মাধ্যমে এক ট্যাবে অনেকগুলো ট্যাব ঢুকিয়ে রাখা যায়। যা ট্যব গ্রুপিং করতে সহায়তা করে। আমি যখন অনেকগুলো ট্যাব খুলি, তখন ট্যাব গুলো কে অর্গানাইজ করতে ট্যাব স্ট্যাকিং ব্যব্হার করি। সব সোস্যাল সাইট (ফেসবুক, টুইটার) একসাথে রাখি, নিউজ গুলো কে একসাথে, আর্টিকেল গুলো এক ট্যাবে।ট্যাব স্ট্যাকিং ভিডিও
ওপেরাতে আপনি ট্যাব বার উইন্ডোর ডানে বামে নিচে প্লেস করতে পারবেন। ওয়াইডস্ক্রিন মনিটরের জন্য এটা অনেক বেশি কাজের। কারণ দেখা যায় ডানে বামে আপনার অনেক জায়গা পড়ে থাকে। ট্যাব বার ডানে/বামে সরিয়ে আপনি ভার্টিকালি কিছু জায়গা বাচাতে পারবেন এক্ষেত্রে। আমার মত মিনিমালিস্ট ইন্টারফেস প্রিয়দের কাছে এটা একটা জটিল ফিচার :)
অন্য সব ব্রাউজারে যখন প্রাইভেট ব্রাউজিং করার জন্য খুলতে হয় নতুন একটি উইন্ডো, সেখানে ওপেরা তে ইচছা করলে ট্যাব এর মধ্যেই প্রাইভেট ব্রাইজিং করা যায়।

মাউস জেসচার :

অন্য যেকোন ব্রাউজার যখনই ব্যব্হার করতে যাই, ভুলে যাই যে এখানে মাউস জেসচার নাই। তারপর কস্ট করে সেই ব্যাক বাটনে ক্লিক করতেই হয় :( ওপেরার এই ফিচারটা আমার সবচেয়ে প্রিয়। ব্যাক করতে হলে শুধু রাইট বাটন চেপে মাউস টেনে বামে নিতে হবে,ব্যস! নতুন ট্যব খুলবেন? মাউস টেনে একটু নিচে নামান। ওপেরা মাউস জেসচার আবিস্কার করেছে ২০০১ সালে। মাউস জেসচার এর লিস্ট পাবেন এখানে।

বিল্ট ইন আর,এস,এস রিডার এবং ফুল ফিচারড মেইল ক্লায়েন্ট :

ওপেরার মত অর্গানাইজড এবং সিম্পল আর,এস,এস রিডার আমি আর অন্যকোথাও পাইনি। আর মেইল ক্লায়েন্ট টা এক কথায় অসাধারণ। আনরিড মেইলগুলো আপনাকে আলাদা দেখাবে। আর মেইল সেটআপ করার জন্য আপানকে ইউজারনেম, পাসওয়ার্ড ছাড়া আর কিছুই করা লাগবেনা। পপ আর আইম্যাপ সাপোর্ট ছাড়াও বিভিন্ন ইউনিক ফিচার আছে ক্লায়েন্টটিতে। নতুন মেইল আর ফিড আসলে সুন্দর একটি পপআপ এসে তা আপনাকে জানাবে। আনরিড কোনো আইটেম থাকলে, টাস্কবার এর আইকন এ একটা মেইল সাইন দেখাবে। মেইল আর আর,এস,এস ফিড আমার প্রতিদিনের একটা অংশ। অপেরা থাকতে আলাদা করে ইমেইল ক্লায়েন্ট অথবা আর,এস,এস সফটওয়্যার ব্যবহার করার দরকারই পড়েনা।

লাইটওয়েট,সিম্পল, কাস্টমাইজেবল:

ফায়ারফক্স আর ক্রোম এর মত রিসোর্স ইন্টেনসিভ না ওপেরা। ওপেরা বানানোই হয়েছে অপেক্ষাকৃত কম পাওয়ারফুল মেশিনের উপযোগী করে। ওপেরা ইংলিশ ইনস্সটলারের সাইজ মাত্র ৯মেবা। আর ইনস্টল করতে লাগে ১মিনিটেরও কম সময় লাগে। এতো ফাস্ট ইনস্টলার আর মনে হয় সিমিলার সাইজের কোন সফটওয়্যারের নেই। কোল্ড এবং ওয়ার্ম স্টার্টআপ ও অন্যান্য ব্রাউজারের চেয়ে অনেক দ্রুত। আর ব্রাউজার ইন্টারফেসের এমন কোন জায়গা নেই যা আপনি কাস্টমাইজ করতে পারবেন না। সার্চ ফিল্ড দরকার নেই? উঠিয়ে দিন, টুলবার কোন বাটন এড করবেন, কোন সমস্যাই না। আর নতুন নতুন অনেক স্কিন তো আছেই।

অপেরা লিংক,ইউনাইট আর টার্বো:

ব্রাউজার ডাটা সিন্ক্রোনাইজেশন ওপেরা তে বর্তমান সেই ২০০৮ থেকে। ওপেরা টার্বো টা কাজে লাগে যখন নেট এর স্পিড নাই বললেই চলে। ওপেরা ইউনাইট দিয়ে p2p file sharing, picture share, local web server এর কাজ করা যায়। এর মধ্যে web server টা আমার যখন তখন কাজে লাগে। ক্লায়েন্ট কে অনলাইনে static web page দেখাতে ওপেরা ইউনাইটের web server টা সবচেয়ে সহজ উপায়।

অন্যান্য:

ওপেরার নোটস ফিচার টা চমৎকার একটা নোট টেকিং টুলস। কোন টেক্সট কপি করে রাইট ক্লিক করলেই নোট এ কপি করার অপশন চলে আসে।
আপনি যেকোন টেক্সট সিলেক্ট করে তা বিভিন্ন সার্চ ইন্জিনে সার্চ করা ছাড়াও ডিকশনারী লুক আপ ও করতে পারবেন। কোন ওয়েব এ্যাড্রেস কপি করে সেটা এ্যাড্রেস বার এ পেস্ট করে আবার গো তে ক্লিক করাও লাগে না। paste and go দিয়ে একসাথে দুটাই করা যায়। ওপেরার পাসওয়ার্ড ম্যানেজারটাও জোশ, পাসওয়ার্ড সেভ করা থাকলে অন্যান্য ব্রাউজার এর মত তা লগইন ফিল্ড এ এসে বসে থাকবে না। আপনি ওপেরার ওয়ান্ড বাটনে ক্লিক করলেই তা আপনাকে লগইন করিয়ে দেবে। আর কাস্টম সার্চ আরো জোশ ফিচার। আপনি যেকোন সাইটের সার্চ ফিল্ড এ রাইট ক্লিক করে create search এ ক্লিক করলেই তা আপনার ব্রাউজারের সার্চ অপশনের সাথে যুক্ত হয়ে যাবে। আর এ্যাড্রেস বার সার্চিং তো সেই কবে থেকেই আছে। সার্চ ইন্জিন আর সাথে কিওয়ার্ড এ্যাড করে সেটা দিয়ে সহজেই এ্যাড্রেসবারে সার্চ করা যায়। আর স্পিড ডায়াল এখন সব ব্রাউজারে থাকলেও, ওপেরার মত সিম্পলিসিটি আর কোথাও নেই।
সবার শেষে হল ব্রাউজারের জগতে ওপেরার অবদান আর ওয়েব স্ট্যান্ডার্ড এর প্রতি তাদের পরিপূর্ণ সাপোর্ট। ২০০৯ থেকে ওপেরা ১০০% W3C Standard Compliant। তখন একমাত্র সাফারি ব্রাউজার ছাড়া আর কেউ পরিপূর্ণভাবে ওয়েব স্ট্যান্ডার্ড সাপোর্ট করত না। একজন ওয়েব ডেভেলপার হিসেবে ওপেরা কে সাপোর্টের ব্যাপার টা এমনিতেই আসে।
তবুও খারাপ লাগে যখন দেখি এরকম একটা অসাধারণ ব্রাউজারকে অনেক মেজর ওয়েবসাইট ই পরিপূর্ণভাবে সাপোর্ট দেয়না। এর পিছনে অনেক পলিটিক্যাল ইস্যু বিদ্যমান। যারা ভাবেন সমস্যা ওপেরাতেই, তাদের জন্য বলি : ওপেরাকে অন্য ব্রাউজার হিসেবে মাস্ক করে চালালেই দেখা যায় সব কিছুই ঠিকমতই কাজ করে।
তবুও ওপেরা থেমে নেই, নিত্যনতুন আবিস্কারে আমাদের ব্রাউজিং কে আরো গতিময় করে চলেছে অবিরাম। থাকবো ওপেরার সাথে যতদিন ওপেরা থাকবে। আর কিছুনা হোক, শুধু ওদের ইনোভেশন আর সব বাধা তুচছ করে এগিয়ে চলার সাহস যোগাতেই।
Opera, the fastest and most secure web browser

No comments: